Breaking News
Home / জেলার সংবাদ / ৪৩ বছর ধরে বীরমুক্তিযোদ্ধার পিতৃ পরিচয়ের অপেক্ষায় আসমাউল হুসনা

৪৩ বছর ধরে বীরমুক্তিযোদ্ধার পিতৃ পরিচয়ের অপেক্ষায় আসমাউল হুসনা

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি !!! 
প্রতিটা শিশুই জন্মের পরে বাবা মায়ের আদর স্নেহ আর ভালবাসায় বেড়ে উঠার পাশাপাশি পিতৃত্বের পরিচয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করার কথা থাকলেও তার কিছুই ঘটেনি আসমাউল হুসনার জীবনে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে স্বামী, সংসার ও সন্তানের জননী হলেও এখন পর্যন্ত পাইনি পিতৃত্বের পরিচয়। তেতাঁল্লিশ (৪৩) টা বছর ধরে অপেক্ষা করছে পিতৃত্বের পরিচয়ে। অন্যান্যদের মত ডাকতে চাই জন্মদাতা পুরুষকে বাবা বলে।কিন্তু জীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও আজও বলা হয়নি বাবা। অশ্রুসিক্ত দুনয়নের জল ছেরে দিয়ে বুকভরা দুঃখ কষ্ট যন্ত্রনা আর একবুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এমনটা জানাচ্ছিলেন পিতৃ পরিচয়ের দাবি জানিয়ে আসমাউল হুসনা। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের গোপগ্রাম এলাকার মৃত মোজাহার আলী শেখের পুত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা  মোঃ আলতাফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার হালিমা খাতুনের কন্যা। আসমাউল হুসনা বলেন,আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান।আমার পিতা তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত আমার মাকে বিয়ে করে কিন্তু বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখে।আমি যখন আমার মায়ের গর্ভে ৮ মাস তখন আমার পিতা আমার মাকে তার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।অর্থাৎ আমার জন্মের পূর্বেই আমাকে ও মাকে ফেলে রেখে চলে যান বাবা এবং আবার তৃতীয় বিয়ে করেন তিনি।আমার পিতা বিগত প্রায় ৪৩ বছর আমার ও মায়ের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেনা।আমার পিতা জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগ কুষ্টিয়া অফিসের সহকারি পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।সে তার তৃতীয় স্ত্রী এবং তার ঘরের এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে কুমারখালীর মালিয়াট গ্রামে বসবাস করে।কিন্তু সন্তান হিসেবে আমার বাবা আমাকে সমাজে পরিচয় দেয়না।এযাবৎকাল পর্যন্ত আমি ও আমার মা পিতার আদর ভালবাসা ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছি। ২০০৫ সালে তার গ্রামের বাড়িতে (মালিয়াট) গিয়ে একবার তার সাথে দেখা করি।কিন্তু সামনাসামনি আমার সাথে ভাল ব্যবহার করে মিষ্টিমিষ্টি কথা বলে বলেন ভবিষ্যতে যোগাযোগ করবে।কিন্তু  মিথ্যা আশ্ববাস দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে এখন পর্যন্ত সে আর কোন খোঁজ খবর নেয়নি।এছাড়াও বাবার সকল সম্পত্তি থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, সম্পত্তি না পাই মরার আগে একবার বাবা বলে ডাকতে চাই।পিতৃ পরিচয় নিয়ে মরতে চাই। জানা যায়, আনুমানিক ১৯৭৫/১৯৭৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর জগন্নাথপুর এলাকার মৃত গোলাম রহমানের মেয়ের সাথে খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের গোপগ্রাম এলাকার মৃত মোজাহার আলীর শেখের ছেলে আলতাফ হোসেনের গোপনে বিয়ে হয়।প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের বছর দুইয়েক পরেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়। পরবর্তীতে আলতাফ কুমারখালীর মালিয়াট গ্রামে তৃতীয় বিয়ে করেন।বর্তমানে তিনি তৃতীয় স্ত্রী সঙ্গেই জীবন যাপন করছেন। এবিষয়ে জানতে অবসর প্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের এই কর্মকর্তা বীরমুক্তিযোদ্ধা  আলতাফ হোসেনের সংঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়।মোবাইল নম্বর ০১৮৪৯৩৯৬৫৬১।  আলাতাফ হোসেনের চাচাতো ভাই তৈয়ব মুঠোফোনে বলেন, আসমার মায়ের সাথে বিয়ের বিষয়টি গোপন ছিল।কিন্তু বছর দুইয়েক পরে ডিভোর্সের সময় জানতে পেরেছি।
SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

কুষ্টিয়ায় মোটর সাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার মিরপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শহর আলী শেখ (৭০) নামের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *