Breaking News
Home / অপরাধ / ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাঃ নুরুল আমীন’র বিরুদ্ধে করোনা সনদ ব্যানিজ্য’র অভিযোগ

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাঃ নুরুল আমীন’র বিরুদ্ধে করোনা সনদ ব্যানিজ্য’র অভিযোগ

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: সারা দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র ভিন্ন। এখানে কিছু অসাধু চিকিৎসক-কর্মচারী ও রাজনীতিক মিলে খুলেছেন করোনার সনদের দোকান। অভিযোগ উঠেছে, এ স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল আমীন করোনা নেগেটিভ সনদ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নমুনা না নিয়েও টাকার বিনিময়ে দিচ্ছেন সনদ। ওই সনদ দিয়ে রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে চাকুরীও হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। বিষয়টি তদন্ত করে ডাঃ নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে হয়রানীর স্বীকার ভুক্তভোগীরা। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ বতর্মানে নেই কোন চিকিৎসা। স্বাস্থ‌্যসেবা ও খাবারের মানও নিম্মমানের। সেই সঙ্গে আছে ওষুধ ও করোনা সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ। সরেজমিনে গিয়ে এসব অভিযোগের সত‌্যতা মিলেছে। ডাঃ নুরুল আমীনের সাথে একটি শক্তিশালী চক্র ওষুধ ও করোনা সনদ বাণিজ‌্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের ভয়ে হাসপাতালের কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকের হাতেই দেখা যায় করোনা সনদ। জানা যায়, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় করোনা নেগেটিভ সনদ। তাই চাকরিপ্রত‌্যাশীরা এ সনদ জোগাড় করতে হন‌্যে হয়ে ঘুরছেন। সনদের ওপর সিল মেরে নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছেন তারা। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছেন, তিনি কোন নমুনায় দেন নি। আবার অনেকে আছে নমুনা কোথায় দিয়েছেন, তাও তার জানা নাই। করোনা মোকাবিলায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কেবল খাতা কলমেই। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না হাসপাতালে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, প্রচুর টাকা আয় করে তিনি সব কিছু ম্যানেজ করে রেখেছেন। অভিযোগ উঠেছে, অনেকে নমুনা না দিয়ে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েই করোনার সনদ নিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ সনদের চাহিদা থাকায় প্রতিদিনই লক্ষাধিক টাকার বাণিজ্য চলে এই স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালে ভর্তি একাধিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে শুধু ব‌্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়। খাবার তো কেউই খেতে পারে না। খাবার অনুপযোগী খাদ্য সরবরাহ করাই বেশিরভাগ রোগীই হাসপাতালের খাবার খান না। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছেলেকে ভর্তি করে বিপাকে পড়েছেন রাইটা নতুন পাড়ার দিনমজুর তৌহিদুল। তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল তো না, এটা ডাকাতের ঘর। পদে পদে টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া কেউ কোনো কাজ করে না।’ করোনা সনদ নিতে আসা সোহাগ আলী জানান, তিনি হাসপাতালের কমিউনিটি হেলথকেয়ার সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সুমনের কাছে নমুনা দিয়েছেন। টাকার বিনিময়ে তাকে করোনা নেগেটিভ সনদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা এ সনদ গ্রহণ করেননি। কারণ, এতে করোনা রেজাল্টের বারকোড নেই। তার নামের বানানও ভুল করা হয়েছে। সোহাগ নামের বানান ঠিক করার জন্য যান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানের কাছে। মুহূর্তেই সুমনের নির্দেশে বানান সংশোধন করে দেওয়া হয়। সোহাগ সেটা স্বাক্ষর করানোর জন্য যান বহির্বিভাগে। সেখানে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আছেন শুধু করোনা সনদে স্বাক্ষর করার জন্য। এরকম শতাধিক লোক বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন করোনা সনদ নেওয়ার জন্য। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এ হাসাপাতালে সনদ বাণিজ‌্যের মূল হোতা জাসদ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এক প্রভাবশালী সহকারী দাঁতের চিকিৎসক । এর সঙ্গে সিএইচসিপি, আরএমও এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল আমীন সরাসরি জড়িত। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আমীন। তিনি বলেন করোনা সনদ জালিয়াতির সুযোগ নেই। অর্থের বিনিময়ে সনদ দেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেলে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ জানান, ‘করোনা সনদ নিয়ে জালিয়াতি বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About দৈনিক জনতার কথা

Check Also

রাজশাহীতে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

মো.পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর রাজপাড়ার থানাধীন নিমতলা মোড়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *