Breaking News
Home / দুর্যোগ / রাজারহাটে তিস্তা নদী ভাঙ্গনে বিলীন বসতভিটা ও জমি

রাজারহাটে তিস্তা নদী ভাঙ্গনে বিলীন বসতভিটা ও জমি

রেজাউল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে অসময়ে তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তার করালগ্রাসে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। হুমকির মুখে পড়েছে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে নদীতীরবর্তী মানুষ। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি, পাড়ামৌলা, কালির মেলা, চতুরা, গাবুর হেলান, রতি, তৈয়বখাঁ, বিদ্যানন্দসহ আট গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পানি কমতে শুরু করলে প্রকট হয় নদীভাঙন। চলতি মৌসুমে এক দফা শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনও প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। অব্যাহত ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে রামহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়বখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামে মসজিদ, মন্দির, কালীর মেলা থেকে বিজলি বাজার পাকা রাস্তাসহ গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘর। ভাঙন আতঙ্কে অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য স্থানে। চলতি মৌসুমে শুধু রামহরি গ্রামেই নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে ২০ পরিবার। ওই গ্রামের ধনী পরিবার ওহাব পরিবার। এবার তাদের আধাপাকা বাড়িটি নদীতে চলে যাওয়ার পর সর্বশান্ত হয়ে তারা সপরিবারে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা শহরে। এখনও নদীতে বিলীন হওয়া বাড়িটির ভগ্নাংশ পড়ে রয়েছে। রামহরি গ্রামের আব্দুল কাদের (৬৫) বলেন, ‘আমার বয়সে তেরোবার নদী ভাঙছে। এখন বাড়ি করার মতো জায়গা নাই। অন্যের জায়গায় একনা ঠাঁই নিয়া আছি।’ একই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘চ্যাংড়া বয়স থাকি নদী ভাঙা দেখি আসছং। ভাঙতে ভাঙতে মোর সব শ্যাষ। এল্যা টাকাও নাই,বাড়ি করার জায়গাও নাই।’ স্থানীয়রা জানান, তারা ত্রাণ চান না। সরকার যেন নদীভাঙন রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়, এটিই তাদের চাওয়া। উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, এক যুগে নদীভাঙনে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র বদলে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে এক সময় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নটিই হয়তো আর খুঁজে পাওয় যাবে না। এদিকে এ মুহূর্তে নদীভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

রাজশাহীতে লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

মোঃ পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক:ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মহানগর এলাকায় ঘোষিত সর্বাত্মক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *