Breaking News
Home / উপজেলার খবর / রাজারহাটে সরক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে দেয়ালে পিষ্ট জীবন নিয়ে ১৬ বছর ধরে বিছানায় কামরুল ইসলাম

রাজারহাটে সরক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে দেয়ালে পিষ্ট জীবন নিয়ে ১৬ বছর ধরে বিছানায় কামরুল ইসলাম

 রেজাউল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের মনারকুটি (গিদালপাড়া) গ্রামের কামরুল ইসলাম (৩৫) পিতা, মহাসিন আলী (৬৭) মাথা, কোহিনুর বেগম (৫৮) কামরুল ইসলাম গত ২০০৪ সালে সরক দুর্ঘটনায় দুইটি পা হাড়িয়ে মা, বাবা, স্ত্রী সহ তার মেয়ে এবং ছেলেকে নিয়ে ১৬ বছর ধরে খুব কস্টে জীবন যাপন করে আসতেছে। গত- ২০০৪ সালের অক্টোবর, বাড়ি থেকে মোল্লা পরিবহনে চাকরি বাচাতে ঢাকা যাওয়ার সময় টাংগাইলের এলেংগা নামক স্হানে গাড়িটি দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি কুড়িগ্রাম থেকে ৬০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে, রাত তিনটার দিকে টাঙ্গাইলের এলেংগা নামক জায়গায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ১২ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। অনন্যদের হাসপাতালে নিয়ে যাইতে না যাইতে আরোও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তার পর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এই সরক দুর্ঘটনায় মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন বেছে যায়। বাকি সবাই মারা যায়। চিকিৎসকরা জানান, কামরুল ইসলামের দুটি পা সম্পূর্ণই ভেঙে গেছে। পরে একটি পা কেটে ফেলে আর একটি পা নিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে, কামরুল ইসলাম দুটি পা হাড়িয়ে শারিরিক ভাবে সুস্হ হয়ে, বিয়ে করেন, আরিফা বেগমকে, এখন তাদের ঘরে দুটি সন্তানও রয়েছে। ৩৫ বছরের কামরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে পঙ্গু হয়ে বাসায় ফিরে। সেই চলচ্ছক্তিহীন ফেলে আর একটি অচল পা নিয়ে ১৬ বছর থেকে কামরুল ইসলাম পড়ে আছে বিছানায়। অর্থাভাবে তার অসহায় পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না, মা, বাবা, স্ত্রী সহ ছেলে মেয়ের খরচ চালাতে। কর্মহীন পরিবারটি। সপ্তাহিক গণকথা পত্রিকার রাজারহাট প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে কামরুল ইসলাম সে দুর্ঘটনার বর্ননা দেন। বলেন, চাকরি বাচাতে বাড়ি থেকে মোল্লা পরিবহনে ঢাকা যাওয়ার সময় টাংগাইলের এলেংগায় সরক দুর্ঘটনায় ১ ঘন্টা আমি অজ্ঞান ছিলাম। যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন অনেক মানুষ গোল হইয়া আমার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল। কিন্তু কেউ ধরে নাই। আমি মারে-বাবারে বইলা চিল্লাইতে ছিলাম। পা দুইডা তখনই ভাইঙা গেছে। পা দিয়ে রক্ত বাইর হইতেছিল। এক বন্ধু পাশে ছিল, ওর থেকে গামছা নিয়া পা বানছি। এক ঘণ্টা পরে আমারে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়া গেছে। ওইখানে আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করে। ডাক্তাররা বইল্লা দিল, ওরে বাসায় নিয়া যান, যা খাইতে চায় খাওয়ান। বেশি দিন বাঁচব না।’সকল সম্পদ ও আত্মীয়দের সহযোগিতায় চিকিৎসা হয় কামরুলের। কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন লোক কইল সাভারের সিআরপি হাসপাতাল আছে। ওইখানে পঙ্গুদের ভাল চিকিৎসা হয়। আমরা ওইখানে গেলাম। জায়গা-জমি বেইচা, খালারা, আত্মীয়স্বজনরা সবাই টাকা পয়সা দিল। সেইটা দিয়া অপারেশন করাইলাম। তখন তারা বইল্লা দিছিল, এই আলাদা পার মেয়াদ পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর এই পা নিতে হবে। ১৯ বছর বয়সে সরক দুর্ঘটনার শিকার হন, কামরুল ইসলাম। এখন তার বয়স ৩৫ বছর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শারীরিক নানা সমস্যাও। পাঁচ বছর মেয়াদী আলাদা পাটি তার শরীরে রয়েছে ১০ বছর ধরে। এজন্য তার অনেক সমস্যা হচ্ছে বলে জানান কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার পায়ে অনেক ব্যথা জালা যন্রনা হয়। এখন অনেক সমস্যা দেখা দিছে। অনেক ব্যথা হয়। আমি ব্যথায় চিল্লাই। আমি সহ্য করতে পারি না। ওষুধ না খাইলে ঠিক থাকতে পারি না। সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন ১৬ বছর ধরে পঙ্গু জীবনযাপন করা কামরুল ইসলাম। বলেন, ‘আমি সবার কাছে আবেদন করি, আমার ওষুধ কিনতে হয়, এবং স্ত্রী সহ ছেলে, মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হয়। কিন্তু আমি নিজেই চলতে পারিনা। কি ভাবে তাদের খরচ চালাবো? কামরুল ইসলামের বাবা মহাসিন আলী ব্যাপারী কোন রকম গাছের ব্যবস্যা চালিয়ে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ষাটোর্ধ এই অসহায় পিতা এরইমধ্যে জীবনের ভারে নুয়ে পড়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলেও তিনি এখন ব্যবস্যা করবে সেই উপায়ও নেই। ফলে অভাব-অনটনে গোটা পরিবারটি এখন দিশাহারা। মহাসিন আলী সপ্তাহিক গণকথাকে জানান, ছেলের চিকিৎসা করাতে অনেক ছুটোছুটি করতে হয়েছে তাকে। সহায়সম্বল যা ছিল সবই ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ। বর্তমান সম্বল বলতে শুধু এই ভিটা মাটি টুকু ছারা আর কিছুই নেই। তার আয়ের ওপরই নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রী, নাতি নাতনি এবং পঙ্গু ছেলের খাওয়া ও চিকিৎসা। কিন্তু নিজের ব্যবস্যা না থাকায় পরিবারের খরচ চলাতে পারছেন না। পারছেন না সংসার চালাতে, পারছেন না অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে। নিজের অসহায়ত্বের বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেডারে নিয়া খুবই সমস্যার ভিতরে আছি। আমারে ছেলেডারে চিকিৎসা করাইতে দশ-বারো লাখ টাকা চলে গেছে। আয়ের পথ না থাকায় আমি আমার সংসার চালাইতে হিমসিম খাচ্ছি। তাই আমার আকুল আবেদন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনা মহাদ্বয় আপনি মমতাময়ী মা আপনার সুদৃস্টি আকর্ষন করছি।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

ফুলবাড়ীতে অর্থের অভাবে বৃদ্ধার লাশ নিলো না পরিরার, দাফন করলো ছাত্রলীগ

মোঃআরিফুল ইসলাম,ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু হওয়া এক বৃদ্ধার লাশ পরিবার নিতে অস্বীকৃতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *