Breaking News
Home / অন্যান্য / উন্মুক্ত জনতার কথা / হোমনায় জোরপূর্বক ভাতিজার জায়গা দখল নিতে বেপরোয়া চাচা  

হোমনায় জোরপূর্বক ভাতিজার জায়গা দখল নিতে বেপরোয়া চাচা  

মো. আবু রায়হান চৌধুরী: কুমিল্লার হোমনায় আপন ভাতিজার দখলে থাকা জায়গার জোরপূর্বক দখল নিতে বেসামাল হয়ে পড়েছেন চাচা জলিল ভূইঁয়া। তার একের পর এক কর্মকান্ডে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভাতিজা ইয়াসিন ভূঁইয়া। ইয়াসিন ভূঁইয়া’র দাদা ও বাবার জীবদ্দশায় তার চাচা জলিল ভূইঁয়া ও ফুফুরা মিলে ষড়যন্ত্র করে ইয়াসিন ভূঁইয়া’র বাবা দুলু ভূইঁয়া কে নিঃস্ব করে তাদের নামে জায়গা রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আছাদপুর ইউনিয়নের ঘনিয়ারচর গ্রামের উত্তর পাড়ায়। বর্তমানে জায়গার দখল নিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠা জলিল ভূইঁয়া’র হামলা ও হুমকির মুখে অসহায় হয়ে পড়েছেন ভাতিজা ইয়াসিন ভূঁইয়া।
জানাগেছে, ঘনিয়ারচর গ্রামের উত্তর পাড়ার ইয়াসিন ভূঁইয়া’র দাদা মৃত আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া’র ২টি সংসার ছিল তার প্রথম স্ত্রী মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করেন। ১ম সংসারের সন্তান একমাত্র মৃত দুলু ভূইঁয়া। আর দ্বিতীয় সংসারে ১ ছেলেসহ ৫ মেয়ে। তারা মিলে ষড়যন্ত্র করে বড় ভাইকে নিঃস্ব করে তাদের নামে জায়গা রেকর্ড করে ফেলে। এ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে দলাদলিতে জড়িয়ে পড়েছেন তারা।
এরই জের ধরে গত ২৮ এপ্রিল জোরপূর্বক সীমানার বেড়া উপড়ে ফেলার অভিযোগে চাচার বিরুদ্ধে হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাতিজা ইয়াসিন ভূঁইয়া। তার বাবা-চাচার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যাওয়া দাদার চৌদ্দ শতাংশ জমি নিয়েই বিরোধের সৃষ্টি প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুলু ভূঁইয়া ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে জলিল ভুঁইয়া নামে আরেক ছেলেসহ আরও ৫ মেয়ে রেখে মারা যান আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া। আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া মৃত্যুর আগে তার দুই সংসারের দুই ছেলেকে চৌদ্দ শতাংশ জমি দলিলমূলে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে যান। এদিকে দুলু ভূঁইয়ার অগোচরে জলিল ভূঁইয়া ও তার বোনেরা মিলে চৌদ্দ শতাংশ জমি তাদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয়। ইতোমধ্যে দুলু ভূঁইয়াও মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধনের জন্য দুলু ভূঁইয়ার ছেলে ইয়াসিন ভূঁইয়া আদালতে মামলা করেন।
এই নিয়ে শুরু হয় মৃত দুলু ভূঁইয়ার ছেলে ইয়াসিন ভূঁইয়ার সঙ্গে চাচা ও ফুফুদের দলাদলি, মামলা মোকদ্দমা। বিরোধ নিরসনে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তাতেও কোনো সুষ্ঠুর সমাধান হয়নি।
বর্তমানে ইয়াসিন ভূঁইয়া দাদা আলীমুদ্দিন ভূঁইয়া থেকে দলিলমূলে পাওয়া বাবা দুলু ভূঁইয়ার অর্ধেক সম্পত্তিতে বেড়া দিয়ে ভোগ দখল করতে চাইলে নতুন করে চাচা-ফুফুদের বাধার সম্মুখিন হন।
আগে চাচা জলিল ভূঁইয়াও অর্ধেক অংশে একটি ছোট ঘর বাধেন, বাকী অংশে দুলু ভূঁইয়ার ছেলে ইয়াসিন ভূঁইয়া বেড়া দিলে তা উপড়ে ফেললে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ইয়াসিন ভূঁইয়া হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা হোমনা থানার এসআই ইকবাল জানান, ইয়াসিন ভূঁইয়ার সঙ্গে তার চাচার জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা আছে। আপাতত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জায়গায় কাউকেই প্রবেশ না করার কথা বলেছি।
ভূক্তভোগী ইয়াসিন ভূঁইয়া জানান, বিগত ৩৫ বছর পুর্বে আমার দাদা মৃত আলীমুদ্দিন ভূইঁয়া আমার আব্বা ও আমার চাচা জলিল ভূইঁয়ার নামে ১৪ শতক জায়গা দলিল করে দিয়ে যায়। পরে আমার চাচা ও ফুফুরা মিলে দাদারে দিয়ে এই দলিল বাতিল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। কিন্তু আল্লাহর কৃপায় দলিল বাতিল করতে পারে নাই।
আমার বাবা তখনকার আমলে বড় লুঙ্গী কাপড়ের ব্যাবসায়ী ছিল। পরবর্তীতে ওরা সবায় মিলে আমার বাবার ব্যবসাটা জোরপূর্বক নিয়ে নেয় এবং দাদার সমস্ত সম্পদ দাদা থেকে লিখে নিয়ে নেয়, তখন আমরা ছোট। আমার বাবা বাঁচার তাগিদে কোন উপায়ন্তর না দেখে আমাদেরকে নিয়ে ঢাকা শহরে চলে যায় আমরা ঢাকা শহরের রাস্তায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছি, না খেয়ে ছিলাম প্রায় দিন।
দীর্ঘ ২০/২৫ বছর পরে যখন আমার আব্বা গ্রামে আসে তখন জানতে পাওে এই জায়গা আমার চাচা ও ফুফুদের নামে বিএস রেকর্ড করে ফেলছে। আমার আব্বার শেষ সম্বল ছিল ঐটুকুন যায়গা। এই জায়গার শোকে আমার আব্বা মৃত্যুবরণ করেন।
এখন আমার কোন থাকার জায়গা নাই।
আমি উত্তসুরি হিসাবে দলিল মুলে মহামান্য আদালতে আশ্রয় গ্রহণ করি। আদালতে মামলা প্রক্রিয়া দিন। এমতাবস্থায় কিছুদিন পূর্বে মামলা কৃত জায়গায় ঘর উঠাতে গেলে আমি বাধা পদান করি। বাধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে আমি থানার আশ্রয় নেই।
থানায় উভয় পক্ষ বসছিল আমার অপর পক্ষ বলছিল আপাদত গরু রাখার ঘরটি তুলুক তার পর আদালতের রায় আসলে না হয় ভেঙ্গে ফেলবে। আমি তাতে রাজি হয়নি এর পর বসার কথা ছিল আর বসা হয়নি পরে থানা থেকে বলা হয়েছে যেহেতু আদালতে মামলা চলছে আদালতের রায় না আসা পযর্ন্ত এখানে কেউ কোন স্থাপনা উঠাবেন না।
গত ২৫/০৪/২০ ইং তারিখে আমি বাড়িতে না থাকায় কাউকে না জানিয়ে পূর্বপ্রস্তুতি মূলক একটি ঘর তুলে ফেলে। পরে আমি আমার ঐ বাকি অর্ধেক জায়গা একটি বেড়া স্থাপন করি। আমার বেড়াটি চাচা সন্ত্রাসীদের দ্বারা ভেঙ্গে ফেলে পরে আমি ২৮/০৪/২০২০ ইং তারিখে একটি অভিযোগ জমা দেই হোমনা থানায়।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

ফুলবাড়ীতে অর্থের অভাবে বৃদ্ধার লাশ নিলো না পরিরার, দাফন করলো ছাত্রলীগ

মোঃআরিফুল ইসলাম,ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু হওয়া এক বৃদ্ধার লাশ পরিবার নিতে অস্বীকৃতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *