Breaking News
Home / অন্যান্য / ধর্ম / হাদিসের আলোকে কুরবানি ও করণীয়

হাদিসের আলোকে কুরবানি ও করণীয়

মীযান মুহাম্মদ হাসান:হযরত ইব্রাহিম আ. কর্তৃক প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল আ. কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হওয়া। আল্লাহপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য নিজ সন্তানকে জবাই করাই ছিল আব্রাহিম আ. জন্য এক মহা পরীক্ষা। আর তিনি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। যার ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় পুত্রের পরিবর্তে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে এই আমলটিকে আমাদের জন্যও আবশ্যক করে দিয়েছেন । হযরত ইব্রাহিম আ. এর স্মৃতিবিজড়িত একটি আমল হলো কুরবানি। যা জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ পালন করা হয়। জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা মানেই মুসলিম উম্মাহর কাছে ঈদ আনন্দের আয়োজন শুরু। মিশকাত শরীফের হাদিসে এসেছে- আল্লাহ তাআলার নিকট কুরবানির ঈদের দিন; কুরবানির চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো ইবাদত নেই। আর কুরবানি করাই হচ্ছে ঈদুল আজহার দিনের অন্যতম একটি আমল। কুরবানি সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস নিম্নে তুলে ধরা হচ্ছে।

যিনি কুরবানি করবেন, তার জন্য করণীয়:উম্মু সালামা রা. থেকে বর্ণিত- নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছুই স্পর্শ না করে (কর্তন না করে)। -সহিহ মুসলিম

কুরবানি না করা সম্পর্কে:আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে অথচ কুরবানি করল না। সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। -সুনানে ইবনে মাজাহ

একটি কুরবানিতে সর্বোচ্চ কতজন শরীক হতে পারবে?

জাবির রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে তামাত্তু হজ্জ করতাম। আমরা সাতজনের পক্ষ থেকে গরু যবেহ করতাম এবং তাতে শরীক হতাম। -সুনানে নাসায়ি

ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, এক ভ্রমণে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে কুরবানির ঈদ উপস্থিত হলো। তখন আমরা একটি গরুতে সাতজন অংশীদার হয়ে এবং একটি উটে দশজন অংশীদার হয়ে কুরবানি আদায় করলাম। -সুনানে তিরমিজি

কুরবানির গোশত খাওয়া ও সংরক্ষণ করা প্রসঙ্গে:

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ তিন দিন পরেও কুরবানির গোশত খেতে নিষেধ করেছিলেন। পরে তিনি বললেন- তোমরা খাও অথবা তা দ্বারা উপকৃত হও অথবা জমা করে রাখো। -সুনানে নাসায়ি

প্রতি বছর কাদের ওপর কুরবানি আবশ্যক?

মিখলাফ ইবনু সুলাইম রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেন- লোকসকল! নিশ্চয়ই প্রতিটি পরিবারের (সামর্থ্যবান) লোকদের ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা কর্তব্য। -সুনানে আবু দাউদ

কুরবানি কখন করতে হয়?

আবদুর রাহমান ইবনু আবু বাকরা রা. হতে তার বাবা থেকে বর্ণিত-নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযের (পর) খুৎবা প্রদান করলেন। তারপর মিম্বার হতে নেমে দুটি মেষ আনতে বললেন। তারপর এ দুটোকে তিনি জবাই করলেন। -জামে তিরমিজি

কুরবানির গোশত দান করা, খাওয়া ও সংরক্ষণ করা।

আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে বলতে শুনেছি : রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু লোক এসে ঈদুল আযহার জামাআতে উপস্থিত হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- তোমরা তিন দিনের খাওয়ার পরিমাণ গোশ্ত রেখে বাকি গোশত সাদকা করে দাও। আয়িশা রা. বলেন, কিছুদিন পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! ইতিপূর্বে লোকেরা তো তাদের কুরবানি (গোশত) দ্বারা (অনেকদিন) সুবিধা ভোগ করতো। তারা চর্বি জমা করে রাখতো এবং চামড়া দিয়ে পানির মশক বানাতো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- এরূপ বলার অর্থ কি? তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কুরবানির গোশত তিন দিনের অধিক জমা রাখতে নিষেধ করেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- সে সময় তোমাদের নিকট কিছু গরীব লোক এসেছিল বিধায় আমি তোমাদেরকে এরূপ নিষেধ করেছিলাম। কাজেই এখন তোমরা তা খাও, সাদকা করো এবং জমা করে রাখো। -সুনানে আবু দাউদ

নিজ হাতে নিজের পশু জবাই করা:আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কুরবানির পশুর পাঁজরের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে নিজ হাতে কুরবানি করতে দেখেছি। -সুনানে ইবনে মাজাহ

ঈদের সালাতের আগে কুরবানির বিধান:আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত- এক ব্যক্তি কুরবানির দিন ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানি করলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবার কুরবানি করার নির্দেশ দেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ

কুরবানিকৃত পশুর চামড়া, রশি ইত্যাদির হুকুম:

আলী বিন আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাকে তাঁর (কুরবানির) উটের গোশত, চামড়া ও ঝুল (জালর) সবকিছু দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ করেন।-সুনানে ইবনে মাজাহ

কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট:আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিং-বিশিষ্ট হৃষ্টপুষ্ট এবং মুখমন্ডল, চোখ ও পা কালো বর্ণের একটি মেষ কুরবানি করেন। -সুনানে তিরমিজি

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রেখে কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

লেখক : ইসলাম বিষয়ক গবেষক

 

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

নগরীর খাদেমুল ইসলাম জামে মসজিদ পরিদর্শনে রাসিক মেয়র লিটন

মোঃ পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি হতে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *