Breaking News
Home / অন্যান্য / ধর্ম / সবর ও রহম করুন করোনা পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান“ :মোঃ রাশেদ খান।   

সবর ও রহম করুন করোনা পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান“ :মোঃ রাশেদ খান।   

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে করোনা মহামারীর আলোচনা একান্ত জরুরী। বড় অভাব দেখা দিয়েছে মানুষের যাপীত জীবনে। সারা পৃথিবীবাসী লকডাউনে।সকল চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ নির্বাক! সকল ক্ষমতাধরগণ অসহায়! সকল গোলাবারূদ, কামান-বিমান আর পরমাণু অস্ত্র নিষ্ফল ও বিফলে! ছোট্ট একটি ভাইরাসকে মোকাবিলা করার সাধ্য এই সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ্য মানব জাতীর নেই! যদিও মানুষ বর্তমানে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে বলে দাবি করে চলেছে! পৃথিবীবাসীর এখন উচিৎ, সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা খাতে তথা শুধুমাত্র মানব কল্যাণে ব্যয় বা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। এ ধরনের মহামারী তথা মহা সংকটকালে মানুষের করণীয় সম্পর্কে মহাবিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহ্তায়ালা মনব জাতীকে উপদেশ দিচ্ছেন,
“কোন গোলামকে দাসত্বমুক্ত করা অথবা অনাহারের দিন কোন নিকটবর্তী এতিম বা ধুলি মলিন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। তারপর তাদের মধ্যে শামিল হওয়া যারা ঈমান এনেছে এবং যারা পরস্পরকে সবর ও আল্লাহ্ সৃষ্টির প্রতি রহম করার উপদেশ দিয়েছে। এরাই ডানপন্থী।আর যারা তাদের রবের নাযিলকৃত কুরআনের আয়াত মানতে অস্বীকার করেছে তারাই বামপন্থী।এদের ওপর আগুন ছেয়ে থাকবে।“
ধনীদের উদ্দেশ্য করে মানুষের রব আদেশ করছেন যে, যখন মনবতা ডুকরে কেঁদে ওঠে তখন তুমি তোমার কাছে যা কিছু গচ্ছিত আছে তাই নিয়ে অসহায়-অনাহারক্লিষ্ট মানুষের পাশে দাঁড়াও। তোমরা তো অনেক সময় নিজেদের বৈভত্বের প্রকাশ ঘটানোর জন্য জনসমাবেশ করে বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলেও খাওয়ানোর মহড়া করে থাক।সেটা না করে তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হও তবে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়াও জাতীয় বিপদের দিনে।এখানে মানুষ তার সৎবৃত্তিকে যদি কাজে লাগায় তাহলে মানবিক বিপর্য়য় হতে মানবতা মুক্তি পেতে পারে। মিসকিন বা অসহায়দের সাহায্য করার ব্যাপারে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত প্রিয় রসূল (সাঃ) এরশাদ করেন,
“বিধবা ও মিসকিনদের সাহায্যার্থে যে ব্যক্তি প্রচেষ্টা চালায় সে আল্লাহ্ র পথে জিহাদে লিপ্ত ব্যক্তির সমতূল্য।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হচ্ছে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একথাও বলেন যে, সে ঠিক সেই ব্যক্তির মতো যে সালাতরত আছে এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করে যাচ্ছে, আরাম করছে না, এবং সেই সিয়াম পালনকারীর মতো যে অনবরত সিয়াম পালন করে যাচ্ছে, কখনো সিয়াম ভাঙে না“। (বুখারী ও মুসলিম)
এতিম ছেলেমেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহারের ব্যাপারে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এরশাদ করেন,
 “যে ব্যক্তি নিজের পানাহারের সময় কোন এতিমকে শামিল করে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন। তবে সে ব্যক্তি যদি ক্ষমার অযোগ্য কোন গুণাহ্ করে থাকে তাহলে ভিন্ন কথা।“ (শারহুস সুন্নাহ্) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এঁর কাছে এসে নিজের ব্যাপারে অভিযোগ করেন, “আমার মন বড় কঠিন।“রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) জবাবে বলেনে, “এতিমের মাথায় হাত বুলাও এবং মিসকিন-অসহায়দের আহার করাও।“ (মুসনাদে আহমাদ) মানুষের সৎবৃত্তিগুলোর মধ্যে প্রধানতম শাখা হচ্ছে তাকে “মুমিন“ হতে হবে।কারণ ঈমান ছাড়া কোন কাজ সৎকাজ আল্লাহ্র কছে গৃহীত হবে না।আর মুনিনগণ সৎকাজ করেন বলেই বলা হয়েছে যে, মুমিনরা সফল হয়েই গেছে।মুমিনদের কাজকে আল্লাহপাক গ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহপাক বলেন, “পুরুষ ও নারী যে ব্যক্তিই সৎকাজ করে সে যদি মুমিন হয়, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।“ (নিসা-১২৪) “পুরুষ ও নারী যে ব্যক্তিই সৎকাজ করবে সে যদি মুমিন হয় তাহলে আমি তাকে পবিত্র জীবন-যাপন করাব এবং এই ধরনের লোকদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুযায়ী প্রতিদান দেবো।“ (নহল-৯৭) “পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকাজ করবে সে যদি মুমিন হয় তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।সেখানে তাকে দেয়া হবে বেহিসেব রিযিক“ (মুমিন-৪০) তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম যে, শুধুমাত্র ঈমানদার মুমিনদের সৎকাজই কেবল মানুষের স্রষ্টা, মানুষের পালনকর্তা রবের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। আর এদেরকেই মুসলিম বা ডানপন্থী বলে ঘোষণা করা হয়েছে আর বিপরীত পক্ষে যারা ঈমান আনেনি এবং সৎকাজও করেনি তাদেরকে কাফের বা বামপন্থী বলে ঘোষণা করা হয়েছে।কাজেই আমাদের সৎবৃত্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। বিপদ-মুসিবতের সময় পরস্পর পরস্পরকে সবর এবং একে অপরের প্রতি রহম দীল সহ স্নেহার্দ্র ব্যবহারেদের উপদেশ দিতে হবে।যখন কোন বালা-মুসিবত আল্লাহর পক্ষ থেকে বা যুদ্ধবিগ্রহের কারণে এসে যায় তখন হিম্মতহারা না হয়ে সবর করবে।মহাবিপদের সময় কেবলমাত্র এই সবররে গুণটিই মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের উপর অটল-অবিচল রাখতে পারে।মুমিনগণ এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে যেখানে সকলের মধ্যে সবর আর একে অপরের প্রতি রহম করার গুণ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। তখন সকল বিপদ তাদের থেকে পালিয়ে যাবে আর সুখ-শান্তিসহ সাফল্যের ডালি তাদের পদতলে লুটিয়ে পড়বে ইনশআল্লাহ্ ।হযরত নুমান  ইবনে বশীর (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেন,“তোমরা মুমিনদেরকে পরস্পরের মধ্যে রহম, ভালোবাসা ও সহানুভূতির ব্যাপারে একটি দেহের মতো পাবে। যদি একটি অংগে কোন কষ্ট অনুভূত হয় তাহলে সারা দেহে তাতে নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।“ (বুখারী ও মুসলিম)
SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

বৃক্ষসখা সুন্দরগঞ্জ’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম: গাছ লাগাই, প্রকৃতি সাজাই, পরিবেশ বাঁচাই, এই শ্লোগানকে ধারণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *