Breaking News
Home / অন্যান্য / উন্মুক্ত জনতার কথা / রাজশাহী বাসির দাবি দ্রুত সদর হাসপাতাল সচল করে ‘কোভিড-১৯ ইউনিট’ চালু

রাজশাহী বাসির দাবি দ্রুত সদর হাসপাতাল সচল করে ‘কোভিড-১৯ ইউনিট’ চালু

 

সাগর নোমাণী, রাজশাহীঃ রাজশাহীর মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রধান ভরসা ছিল সদর এক সময় হাসপাতাল। সদর হাসপাতালে প্রায় ২০বছর ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট পুরো সদর হাসপাতালটি ‘দখল’ করে আছে। ফলে সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ প্রায় ২০ বছর ধরে।

এদিকে সদর হাসপাতাল বন্ধ থাকায় সমস্ত রোগীর চাপ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। দেশের অন্তত ২০টি জেলার মানুষ এই হাসপাতালে সেবা নিচ্ছেন। সাধারণ রোগের পাশাপাশি চলছে করোনা রোগীদেরও চিকিৎসা।ফলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকেই দ্রুত করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন মহলে সদর হাসপাতাল চালুর করার দাবি উঠেছে।

 

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, আমাদের এখানে সাধারণ রোগী ও করোনা রোগীর একসাথে চিকিৎসা করানো একটু কঠিন। এতে সাধারণ ওয়ার্ডেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ জন্য করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে সদর হাসপাতালও হতে পারে।

রাজশাহী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, পুরনো দোতলা ভবনের নিচতলায় রামেকের ডেন্টাল ইউনিটের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। দোতলায় রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন। পুরনো এই ভবনের পেছন দিকে ২০১২ সালে ডেন্টাল ইউনিটের জন্য আলাদা চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও ডেন্টাল ইউনিট সদর হাসপাতালের পুরনো ভবনেই আছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এই হাসপাতালের জমিতেই এখন ভবন নির্মাণ করছে। অস্থায়ীভাবে সদর হাসপাতালের একটি ভবনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রম চালাতে চালাতে এখন সেখানেই পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা ব্যাথাসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেয়া হতো। ১৯৩৮ সালে সদর হাসপাতাল নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারও শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপিত হয়। এরপর সদর হাসপাতালের বেশিরভাগ রোগের চিকিৎসা ওই হাসপাতালেই চালু হয়। সদর হাসপাতালে শুধু নাক, কান, গলা ও চোখের চিকিৎসা চলত। ১৯৮৯ সালে সদর হাসপাতালের নিচতলায় চলে আসে রামেকের ডেন্টাল ইউনিট। তারপরও দোতলায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসা চলত। ২০০৪ সালে সদর হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও চোখের চিকিৎসাও রামেক হাসপাতালে টেনে নেয়া হয়। ফলে তখন থেকেই সদর হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। সদর হাসপাতালে এখন শুধু ডেন্টাল ইউনিট।

ইউনিটের প্রধান ডা. নাহিদ খুররম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে ইনডোর সুবিধা নেই। তবে আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। আর ইউনিটে এখন ৫ বছর মেয়াদী বিডিএস কোর্স চলছে। প্রতিবর্ষে ৬০ জন করে শিক্ষার্থী। আমরা পূর্ণাঙ্গ কলেজ হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা রাখি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কলেজ হচ্ছে না। সেটা হলে তো আমরা অন্যভাবে কাজ করতে পারতাম।

সদর হাসপাতাল চালুর জন্য রাজশাহীর জনপ্রতিনিধিরা বারবার চেষ্টা করেছেন। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গত বছরের নভেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেককে চিঠি দেন। এতে সদর হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেন হাসপাতালটি চালু করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য। গত ২ ডিসেম্বর দেয়া এই চিঠিতে বলা হয়, ‘স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণসহ যে কোন মহামারী প্রতিরোধে পূর্বের ন্যায় রাজশাহী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ কিন্তু এরপর কোন অগ্রগতি হয়নি।

হাসপাতালটি চালু করতে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাও কম চেষ্টা করেননি। তিনিও দৌড়াদৌড়ি করেছেন মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তরে। সংসদে কথা বলেছেন একাধিকবার। এমপি বাদশা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এখনও সদর হাসপাতাল চালু করতে পারলাম না। চিকিৎসকদের একটা অংশ চান না যে, ডেন্টাল ইউনিট পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজে রূপ পাক। আর সে কারণেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের একটা শাখা হিসেবে ডেন্টাল ইউনিটকে সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এদিকে সদর হাসপাতালটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর কমিটি। গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে ‘বিকল্প’ কোভিড হাসাপাতালের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ যেভাবে ছড়িয়েছে; তা খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। কোভিডের এমন দুঃসময়ে বিভাগের সবকটি জেলা থেকে রামেক হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালেও তৈরি হচ্ছে প্রচণ্ড চাপ। এ চাপ সামাল দিতে এখনই হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতে আমরা যদি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘বিকল্প’ চিন্তা না করে শুধুমাত্র রামেক হাসপাতালের ওপর ভর করি, তবে তা আগামীর বিপদকে ত্বরান্বিত করা ছাড়া কিছুই নয়।’

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের জায়গা ও জনবল বিবেচনায় সাধারণ রোগীদের জন্যই বেশিরভাগ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি তারা করোনার চিকিৎসা চালাচ্ছেন। একটি হাসপাতালে সাধারণ রোগী ও করোনা রোগীকে একসাথে রেখে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো আশঙ্কাজনক। এতে সাধারণ ওয়ার্ডেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। সুতরাং এমন নাজুক পরিস্থিতিতে রাজশাহীকে বাঁচাতে হলে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে রাজশাহী সদর হাসপাতাল একদম যথাযথ।’

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আগামীর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে হলে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। সিদ্ধান্তে কালক্ষেপণের খেসারত বর্তমানে পার্শ্ববর্তী অনেক দেশকে দিতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, রাজশাহী সদর হাসপাতালকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।’

বিবৃতিতে এ দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘বিভাগীয় শহর হলেও এখানে সদর হাসপাতাল থেকেও না থাকাটা দুঃখজনক। আমরা এতটুকু বলতে পারি যে সদর হাসপাতাল চালুর ব্যাপারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর চেয়ে এখন বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

নিজ উদ্যোগে ৪ বছরে নওগাঁ ও রাজশাহী সড়কে এক লাখ তাল গাছ রোপণ করেছেন বেলাল

  কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে তাল গাছ। এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *