Breaking News
Home / অর্থনীতি / পূবালী ব্যাংকে কৃতদাস প্রথা এখনো চলমান, জোরপূর্বক ২৪ ঘন্টা ডিউটি,বেতন বন্ধসহ বিভিন্ন অত্যাচারের অভিযোগ মিলছে না পরিত্রাণ

পূবালী ব্যাংকে কৃতদাস প্রথা এখনো চলমান, জোরপূর্বক ২৪ ঘন্টা ডিউটি,বেতন বন্ধসহ বিভিন্ন অত্যাচারের অভিযোগ মিলছে না পরিত্রাণ

মোঃ আলমগীর হোসেন :বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ যখন কর্মহীন ও অসহায় মূহুর্তে, এমন সময় পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর আর্মড গার্ডের  বেতন ও বৈশাখী ভাতা না দেওয়ার সত্যতা মিলেছে।পূবালী ব্যাংক লিমিটেড বারইগ্রাম বাজার শাখা,বিয়ানি বাজার সিলেট,এর  সি:আর্মড গার্ড মেহের কুমারের গেল মাসের বেতন ও বৈশাখী ভাতা না দিয়ে শাখা ব্যবস্থাপক শাখার সকল কর্মকর্তা – কর্মচারীর বেতন প্রদান করেন।বিষয়টি নিয়ে শাখা ব্যবস্থাপক মুন্জুর ইসলামের সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন,বেতন ও বৈশাখী ভাতা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না ,বলেই মুঠোফনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর  মিরপুর শাখার সি: আর্মড গার্ড মাজহারুল ইসলামের সাথে একই ঘটনা ঘটে, এ নিয়ে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড মিরপুর শাখার, শাখা ব্যবস্থাপক এজিএম ফারজীন আহমেদ এর সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেতন ও বৈশাখী ভাতা না দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন অঞ্চল প্রধানের নির্দেশে এমনটি হয়েছে । তবে তাকে ৩০ শে এপ্রিল বেতন দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানব সম্পদ বিভাগ প্রধান মহা ব্যবস্থাপক এনায়েত মঞ্জুর এর সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে বিষয়টি তিনি জানেন তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আর্মড গার্ডের বেতন প্রদান করা হবে।তাছাড়া দেশে প্রাণঘাতী করোনা আতংকের মধ্যে এমটা করা ঠিক হয়নি । প্রতিবেদক কথা বলার পরে ৩০ শে এপ্রিল আর্মড গার্ডদের এপ্রিল মাসের বেতন প্রদান করা হয় ।

তাছাড়া আমর্ড গার্ডদের ঘটমান সমস্যা তার কাছে তুলে ধরা হলে ,তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ,পর্যায়ক্রমে প্রতিবেদক কে বলেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর আর্মড গার্ডের চলমান সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন কর্তৃপক্ষ, আর সমস্যা সমাধানের জন্য বিষয়টি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আমরা আলোচনা করে দেখবো।

বিষয়টি নিয়ে পূবালী ব্যাংক লিঃ আর্মড গার্ড কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আঃ আলিম মির্জা, সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন সহ আরও অনেকেই  বলেন, ব্যাংকের মানব সম্পদ বিভাগ ও   অঞ্চল প্রধান (আর এম) এরা সবাই কান পাতলা। কাজ্জাব শাখা ব্যাবস্থাপক এর কথা মত আর্মড গার্ড ভাই দের, মিথ্যা অপবাদ, ও প্রহসণ মূলক বদলী করেন।

অথচ ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ শাখায় আর্মড গার্ড  একজন মাত্র। শাখায় একজন করে আর্মড গার্ড হওয়ার ফলে তাদের নেই কোন সাপ্তাহিক ছুটি, শুক্রবার ও শনিবার, দিনে রাতে সার্বক্ষণ তাদের ব্যাংকে থাকতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া রেজিস্ট্রার খাতায় সাক্ষর সংরক্ষণ করে ৮ ঘন্টা ডিউটি লিখে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে  আর্মড গার্ড  ভাইদের।
আরও বেশ কয়েক জন আর্মড গার্ড এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছু কিছু শাখায় সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত অস্থায়ী সিকিউরিটি কোম্পানির গার্ড দিয়ে গেট ডিউটি করায়। তখন আমাদের (আর্মড গার্ড)  ক্যাশ কাউন্টারের ভিতরে,ইচ্ছের বিরুদ্ধে ক্যাশের কাজ করানো হয় । সন্ধ্যা ছয়টার পর ব্যাংক হতে সবাই বাসায় চলে যায়। তখন আমাদের অস্ত্র ছাড়া আরও ১৬ ঘন্টা ডিউটি করতে হয়। সন্ধ্যা ০৬ থেকে পরের দিন সকাল ১০ টা পর্যন্ত।

হগ

দেশব্যাপী পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায়    কর্মরত (সশস্ত্র প্ররহী) আর্মড গার্ডদের চাকরি প্রায় ক্রীতদাসের মতো বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের রূঢ় আচরণের কারণে চাকরি করাটা তাদের জন্য দুঃসহনীয় হয়ে উঠেছে। নিয়মানুযায়ী আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের কথা চাকরির শর্তে থাকলেও বিভিন্ন শাখা অফিসগুলো নিজেদের মনগড়া প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৪ ঘণ্টা কাজ করাতে বাধ্য করছেন। প্রতি মাসে বাড়তি ৫৪৪ ঘণ্টা ওভারটাইম করিয়ে মাত্র প্রণোদনা পান ৫০০ টাকা; এ টাকাও একাধিক গার্ডের মধ্যেও ভাগ হয়ে যায়। ঘণ্টাওয়ারি বাড়তি টানা পান মাত্র ৫০ পয়সা।

টানা দায়িত্বের পর বিশ্রামের সুযোগ নেই তাদের। বেতনের টাকায় পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করতে পারেন না। শাখা অফিসে একাধিক এজি থাকলেও মানা হচ্ছে না ৮ ঘণ্টার রোটেশন। স্বাক্ষরের রেজিস্ট্রার বইয়ে রোটেশন দেখানো হলেও ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে এটা অনুসরণ করা হয় না। তবে চাকরির শর্তের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ব্যতিক্রম। এখানে এজিদের বিধি অনুযায়ী ৮ ঘণ্টাই দায়িত্ব পালন করান। এমনকি অতিরিক্ত ডিউটি করানো হলে ঘণ্টাওয়ারি যে প্রাপ্যতা তাও মাস শেষে বুঝিয়ে দেওয়া হয় আর্মড গার্ডদের বলে জানান তারা।
এখানেই শেষ নয়, আর্মড গার্ডের জীবনের ঝুঁকি ও মূলহীন কর্তৃপক্ষের কাছে যার কারণ, আর্মড গার্ড দিন রাত ২৪ ঘন্টা ডিউটি করার কারণে, রাতে অনেক সময় গার্ড রুমে শুয়ে বিশ্রাম নিতে থাকে এবং ঘুমিয়ে যায়। তখনই গার্ড ও ব্যাংক  উভয়ই নিরাপত্তার হুমকির মুখে থাকে। ব্যাংকে চুরি ,ডাকাতি হলে হাত কড়া পড়ে গার্ডের হাতে। যার দরুন বলা যায়, অনাকাঙিক্ষত  চুরি ডাকাতির জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অরক্ষিত   ব্যাবস্থাপনাই একমাত্র দায়ী।

অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্র হাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে না রেখে তাদের দিয়ে অফিসের পিয়ন-চাপরাশিদের কাজ করানো হয়। বাইরে থেকে চা আনা থেকে নাশতা তৈরি করে বসের সামনে সাজিয়ে দিতে হয় তাদের। এতে নিরাপত্তার বিষয়টি হুমকিতে পড়ে। আবার অপ্রত্যাশিত ব্যক্তি ব্যাংকে প্রবেশ করলে এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই এজিদের ওপরে নেমে আসে নানা শাস্তির খড়গ। বদলি থেকে বরখাস্তের ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে প্রধান অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি।

মৌখিক অঙ্গীকার-আশ্বাসের মধ্যে থাকে
সীমাবদ্ধ। ক্ষেত্রবিশেষে সব অভিযোগ থাকে লালফিতায় বন্দি। ভুক্তভোগীরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং কল-কারখানা পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তা চাওয়ার পরও অজ্ঞাত  কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছে না বলেও জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষের উপর দেশজুড়ে শ্রম আইনে মামলা দায়ের করেছেন আর্মড গার্ড সদস্যরা, যা চলমান রয়েছে ।

জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চাকরিজীবনে মাত্র একবারই পদোন্নতি পান আর্মড গার্ডরা। অনেকে চাকরি থেকে অবসরে যান চাকরিতে প্রবেশের পদ থেকেই। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাখা অফিসের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এজিরা বসদের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদী হয়ে উঠেন ২০১৫ সাল থেকে। প্রথম সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ মজুমদারকে নিরাপত্তা প্রহরীদের পক্ষ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর-১৫ সালে ই-মেইলে অভিযোগ দাখিল করেন। এতেও কাজ না হলে ২০১৭ সালের ২ মে তারিখে দ্বিতীয় পত্র পাঠান সিকিউরিটি অফিসার সামসুল ইসলাম নামে। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের ইউনিয়ন নেতা আবদুস সাত্তার ও মো. মনোয়ারকে সমস্যা জানিয়ে পত্র দেন। ওই বছরের ২ এপ্রিল একযোগে ১০ জন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এইচআরডির প্রধানকে পত্র পাঠান। এ পত্রটি পাঠান জাহাদুল ইসলাম, সিনিয়র আর্মড গার্ড, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ব্রাঞ্চ থেকে। পরে দফায় দফায় পত্র পাঠানোর পর চিঠি পেয়েছেন জানিয়ে এইচআরডি থেকে ডিজিএম মো. শাহিন খান সমস্যা নিরসনের আশ্বাস দেন। এ আশ্বাস পাওয়ার পর এক বছর পার হয়েছে। কিন্তু এজিদের সংকট সমাধান হয়নি; আরো ঘনীভূত হয়েছে বলে স্বীকার করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বাণিজ্যিক জোনের এক নিরাপত্তাকর্মী।

সম্প্রতি তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে ৮ ঘণ্টা ডিউটি, অতিরিক্ত ডিউটির জন্য ওভারটাইম, সাত ধাপে পদোন্নতির ব্যবস্থা রাখা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটির সুযোগ রাখা, নিরাপত্তার স্বার্থে হেলপার-পিয়নদের শাখায় রাত্রে অবস্থান করতে না দেওয়া, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা ও হয়রানিমূলক বদলি চিরতরে বন্ধ করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আর্মড গার্ড বলেন, অধিকাংশ শাখাতে বার্তাবাহক (ম্যাসেঞ্জার) কাম গার্ডকে দিয়ে চা-নাশতাসহ আনুষঙ্গিক কাজ করান। ছুটিতে গেলে আর্মড গার্ডের ডিউটির জন্য অন্য কাউকে সাময়িক নিয়োগ করা হয় না। পূবালী ব্যাংকে ১৯৫৯ সাল থেকেই আর্মড গার্ড নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে আসছে। তখন থেকেই চলছে আমাদের ওপরে মানবতাহীন কাজ। তিনি বলেন, আমাদের একটাই দাবি, চাকরির শর্তানুযায়ী ৮ ঘণ্টাই ডিউটি।

ঢাকা জোনের এক নিরাপত্তী কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পূবালী ব্যাংক মূলত আমাদের ক্রীতদাস বানিয়ে রেখেছে। ব্যাংকটির শাখা অফিসের ম্যানেজাররা আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রধান শাখা মৌখিক আশ্বাস ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আমরা জেলখানার কয়েদির মতো জীবনযাপন করছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাই না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িল বিশ্বরোড শাখার এজিএম তোফাজ্জল হোসাইন বলেন, শুধু পূবালী ব্যাংক নয়; সব ব্যাংকেই আর্মড গার্ড রয়েছে তাদের ডিউটি ৮ ঘণ্টা। আমার শাখাতেও তেমন।
তবে আর্মড গার্ডের অভিযোগের বিষয়ে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম এর সাথে মুঠোফনে একাধিক বার যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি বার বার কল বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে, তাকে মুঠোফনে পাওয়া যায় নি ।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

রাজশাহীতে প্রথম দিনই সাড়া ফেলেছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

মো.পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছর চাহিদা না থাকায় তেমন সাড়া মেলেনি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *