Breaking News
Home / অন্যান্য / উন্মুক্ত জনতার কথা / নাম না জানা , অচিন গাছ

নাম না জানা , অচিন গাছ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের, রাজারহাট উপজেলার, চাকিরপাশা ইউনিয়নের, হাজার বছরের পুরোনো এই অচিন গাছ। বয়স তার কত তা কেউ জানেন না। শুধু জানেন প্রাচীন। অনেক প্রাচীন। প্রজম্মের পর প্রজম্ম ধরে বয়ে চলেছে এই বিশ্বাস। কিন্তু যে জানে সে তো কথা বলে না। শুধু নিরবে সবকিছু দেখে আর বিশ্বাসীদের বিশ্বাসের মূল্য দেয়। এমনই এক গল্প যা কিনা কোন মানুষের না। অস্তিত্বের, বিশ্বাসের। একটি গাছের। অচিন গাছ। যার নাম কেউ জানে না। জানে না তার বয়স কত। সবাই তাকে অচিন গাছ নামেই চেনে, জানে। গাছটির বিশেষত্বই বা কি যে শত শত বছরের পুরনো একটি গাছকে সবাই এত সমীহ করে। কোন জাতের বা কোন প্রজাতির গাছ সেটিও কেউ জানে না।
রাজারহাট উপজেলার চাকিরপাশা ইউনিয়নের,জয়দেবহায়াত গ্রামে এমনই এক বিরল জাতের গাছ রয়েছে। যে গাছের সঙ্গে আকার আকৃতি কোন কিছুর মিল নেই অন্য গাছের সঙ্গে।স্থানীয় সকলে গাছটিকে ডাকেন অচিন গাছ নামে। গাছটি সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকায় এর মৌখিক নাম দেয়া হয়েছে অচিন গাছ। নাম অচিন হলেও সকলের খুব কাছের গাছ এটি।
কৌতূহলেরও একটা শেষ আছে কিন্তু এই অচিন গাছের কোন শেষ নেই। গাছটির সামনে বাড়ির ঘরের উপরে ডাল পালা দিয়ে আগলে ধরে রেখেছে। কেউ তার ডাল পালা কেটে ফেলতে ও পারে না। গাছটির নিচে খুব সুন্দর করে, গোড়া বাধা রয়েছে, গাছটির পাশে দিয়ে, গড়ে উঠেছে, মন্দির ও বাসতবাড়ি। বসতবাড়ির উপরে, অজানা সময় ধরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই অচিন গাছ। গাছের শাখা-প্রশাখার অন্ত নেই। প্রছণ্ড আকার এই অচিন গাছের। কিন্তু শান্ত, শীতল বাতাস দিয়ে গ্রামবাসীকে পাহারা দিচ্ছে গাছটি।
মোঃ রুহুল আমিন মিস্ত্রী, মোঃ নুর আলম সরদার এবং আঃ হাই কৃষকের কাছে অচিন গাছ সমন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই গাছের ব্যাপারে কারও কিছু নাই। ছোট বেলা থেকে বাপ দাদার মুখে গল্প শুনে আসতেছি, তারাও এই গাছকে এরকমই দেখতেছি। গাছের নাম কেউ জানে না এজন্য সবাই অচিন গাছ বলে ডাকে।”
তবে প্রায় শতবর্ষী রুহুল আমিন ও অন্যান্য লোকজন জানান কথিত আছে কোন এক মহাজন এই গাছে চড়ে আকাশ পথে উরে এসে গাছটি এখানে পরে, এই গাছের জম্ম হয়। সেই সময় ময়মর্রুব্বিদের কাছ থেকে জানা যায়,তবে সময়টা কবে সেটি কেউ বলতে পারেন না।ছোট ছোট গাঢ় সবুজ পাতা আর সাদাটে ফল সব সময় থাকে গাছে। অচিন গাছ নিয়ে নানা সময় নানা রকম গল্প মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায় সকলের। তবে গাছটি যে এলাকাবাসীর প্রচণ্ড আবেগের তা বোঝা যায় এই অচিন গাছের প্রতি তাদের ভালোবাসা দেখে। এই গ্রামের লোকজনের কাছে শোনা যায়, অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে এই গাছের। অচিন গাছের ফল নাকি খুব উপকারী। বিশেষ করে যে সকল মহিলাদের বাচ্চা হয় না তারা নাকি এখানে এসে মানত করলে, তাদের আশা পুরুন হয়ে যায়।
শুধু বাচ্চার জন্য নয়, পেটের অসুখ কিংবা যেকোন বিষয় নিয়ে লোকজন আসেন অচিন গাছের কাছে, তাদের মানত জানাতে। অচিন গাছের ফলে ফলেও যায় কাঙ্খিত সেই বাসনা। ইচ্ছা পূরণ হলে তারা আবার আসেন সেই গাছের কাছে, পাশে রান্না বাড়ি করে লোকজনকে খাওয়ান মনের আশা পূরণ হওয়ার জন্য।
নিজের ঘরের মানুষ, খুব কাছের মানুষ হয়ে থাকা অচিন গাছ তার নিজস্বতা পাক, পাক তার পরিচিতি। এটি এখন চান এলাকার শিক্ষিত লোকজন। তাদের দাবি এই গাছের ফল, পাতা পরীক্ষা করা হোক। এত প্রাচীন একটি গাছ যার পরিচিতি অচিন গাছ নামেই। হয়ত এটি কোন মহা মূল্যবান ঔষধি নাম বিহীন গাছ, অচিন গাছ- কিন্তু কেউ জানে না। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসলে এই গাছ থেকে উপকার পাবেন আরও অনেকে, প্রচার বাড়বে অচিন গাছের।হয়ত রূপকথার গল্পের মত ছোট বাচ্চাকে মা গল্প শোনাতো কিংবা রাতের বেলা উঠোনে পাটি পেড়ে কোন বাচ্চা গল্প শুনত তার দাদা-দাদির কাছে এই অচিন গাছের। এখন তো আর সেই সময় নেই, তবুও শত শত বছর ধরে এই গ্রামের বাড়ির পাশে গাছটি রয়েছে। অচেনা অজানা আপন এই গাছটির শরীরে রয়েছে পেঁচার, পাখিদের বসতি। কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরায় না অচিন গাছ। মানুষের মনের বিশ্বাস সব থেকে বড় বিশ্বাস। অলৌকিক কোন কিছু থাক বা অচিন গাছের বৈজ্ঞানিক গুণাগুণ থাক, সেটি ছাপিয়ে অচিন গাছ এখন এই অঞ্চলের মানুষের কাছে বিস্ময় ও আবেগের। যা প্রকাশ হয় না সচরাচর কিন্তু আত্মিক টান ঠিকই থেকে যায় যেটি সব বিশেষে জেগে উঠে। এটুকু প্রাপ্য তো অচিন গাছ পেতেই পারে।রাজারহাট উপজে’লা প্রশাসন স’রকারী অর্থায়নে গাছের চার পার্শ্বে দর্শনার্থীদের বসার জন্য সান বাঁ’ধা আসনের ব্যবস্থা করেছেন। এরআগে কুড়িগ্রামের সাবেক জে’লা প্রশাসক নুরুল আমীন অচীন গাছের গোড়া বাঁ’ধাই ও দর্শনার্থীদের সানবাঁ’ধা আসনের ব্যবস্থা করেন।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

গণপরিবহন চালুর দাবিতে রাজশাহীতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মোঃ পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক:স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চালুর দাবিতে সারাদেশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *