Breaking News
Home / শিক্ষা / দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

করোনার কারণে সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ। তাই আবারও সম্ভাব্য সেশনজটের হাতছানি! দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় সেশনজট কাটিয়ে উঠেও আবারও তীব্র সেশনজটের মুখোমুখি হতে চলেছে শিক্ষার্থীরা। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা!

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমন অবস্থায় সেশনজটের আগাম হাতছানিতে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা কলেজের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বেলাল হোসাইন পাটোয়ারী দেশ’কে বলেন, ‘চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এই অচলাবস্থা যদি আরও দীর্ঘ সময় চলতে থাকে তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হব আমরা সাত কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমনিতেই দীর্ঘ সেশনজট এবং অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা আমাদের নাকাল করছে। তার ওপর এমন অবস্থা চলতে থাকলে সেশনজট দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনিরা দেশ’কে জানান, ‘আমরা যারা নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছি আমাদের সেশনজট না থাকলেও দীর্ঘদিন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগের সেশনগুলোর মতো আমরা নতুনরাও সেশনজটের কবলে পড়বো।’

ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে ২০১৭ সালের চলমান মাস্টার্স পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা কলেজের মাস্টার্স ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে যে পরীক্ষা হবার কথা ছিলো সেই পরীক্ষা ২০২০ সালে দিচ্ছি। তাও আবার করোনা ভাইরাসের কারণে দুটি পরীক্ষা হবার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। সেশনজটের কারণে আমাদের সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হবার উপক্রম হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যদি এই পরিস্থিতির পর কার্যকরী পদক্ষেপের গ্রহণ না করে তবে আমাদের সরকারি চাকরিতে বয়সের সময়সীমাই চলে যাবে।’

এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্ল্যাহ খন্দকার দেশ’কে বলেন, ‘আমরা তো সেশনজটের সমস্যাগুলো প্রায়ই কাটিয়ে উঠছিলাম। এখন যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে সমস্যা বাড়বে। আগামী ৫ মের পর অফিস খুললে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিটিং করে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পর কলেজ খুললে অবশ্যই আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামে যাবো।’

এছাড়াও আগামী ৫ মের পর বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের আটকে থাকা ফলও প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের কারণে আটকে থাকা ফলের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ফল প্রকাশ করতে আমাদের কতগুলো বিষয় সম্পন্ন করতে হয়। আমরা সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

করোনার ফলে দীর্ঘ বন্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চলমান রাখতে অনলাইনে সমন্বিত ক্লাস নেওয়া যায় কিনা? এ ব্যাপারে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দেশ’কে বলেন, ‘অনেকেই এখনো অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে না। আমাদেরও কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক ক্লাস নেওয়া যায় কিনা সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখবো।’

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনায় গত ১৮ মার্চ থেকে যাবতীয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এবং এরপর সকল পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে  কর্তৃপক্ষগুলো।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

বৃক্ষসখা সুন্দরগঞ্জ’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

গাইবান্ধা সংবাদদাতা শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম: গাছ লাগাই, প্রকৃতি সাজাই, পরিবেশ বাঁচাই, এই শ্লোগানকে ধারণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *