Breaking News
Home / অপরাধ / গোদাগাড়ী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুকুরের মাছ হরিলুট, থানায় অভিযোগ:অভিযোগকারীকে ইউপি সদস্যের হুমকি

গোদাগাড়ী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পুকুরের মাছ হরিলুট, থানায় অভিযোগ:অভিযোগকারীকে ইউপি সদস্যের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বেলেপুকুর মহল্লার মৃত আলহাজ্ব মো. মতিউর রহমানের ছেলে মো. ফারুক হোসেনের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভোগ দখলীয় পুকুরের ১০ মন মাছ লুট করেছে ১০/১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল। যার মৌজা, সিধনা, জেএল নং-২০, দাগ নং-৫৭১, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৬৮৬, হোল্ডিং নং-৬৭৪।

জমির মালিক ফারুক হোসেন জানান, গত ২৬ এপ্রিল সকাল ৮ টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, মোমিনের ছেলে রুহুল আমিন, মতিনের ছেলে মানিক, মন্টুর ছেলে আজম, এলতাজের ছেলে আসগর আলী, ফরিদের ছেলে আহমদ, তফজুলের ছেলে মনিসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, জালসহ অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি ভাবে দলবদ্ধ হয়ে পুকুরে নেমে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়।

জমির মালিক আরো জানান, পরে মোবাইল ফোনে তাদের কাছে মাছ লুটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও পুকুরে গেলে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এমতা অবস্থায় ঐ দিনই গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করি। এ অবস্থায় আমিসহ পরিবার চরম আতঙ্কে আছি। আশা করি তদন্ত সাপেক্ষ পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


এছাড়া মামলা সূত্রে জানা যায় এবং ফারুক হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে চলতি বছরের  ২৯ শে ফেব্রুয়ারি  সিধনা পুকুরের পাশে  আরেকটি পুকুরে ও মাছ চুরি করে ধরে নেয় । পুকুর পরিমাণ ৭০ শতক, দানপত্র দলিল নং ৩৭৬০/১১,জেলা:রাজশাহী থানা:গোদাগাড়ী, মৌজা:সিধনা, জেএল নং -২০,আর এস খতিয়ান নং-২৩৯,আর এস দাগ নং-৬০৪,প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-৬৮৬,হোল্ডিং নং-৬৭৪, পুকুরটি ফারুক হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তি।কিন্তু ঐ(সিধনা) এলাকার
বেশ কিছু লোক অনধিকার প্রবেশ করে,দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র ,হাঁসুয়া,লোহার রড ,ইত্যাদি সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে,পুকুরে চাষকৃত রুই,কাতল,মৃগেল প্রতিটি মাছের ওজন আনুমানিক ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত প্রায় ২০ মণ মাছ চুরি করে মেরে নেয়।যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১,৬০,০০০ টাকা। ফলে অভিযুক্ত মোঃ সাঈদ আলী (৫৫),মৃত. সেতু মন্ডল, মোঃ জামিরুল ইসলাম (৪৫),পিতা: মোঃ নজরুল ইসলাম, মো আমিনুল ইসলাম (৪৬) পিতা: মো:গোলাম রাব্বানী,মোঃ আ: লতিব (৪৮),পিতা:মৃত.আরশাদ আলী সর্বসাং সিধনা,বাসুদেবপুর,গোদাগাড়ী,রাজশাহী এবং অজ্ঞাত আরো আরো ১০/১৫ জনের নামে মোকাম বিজ্ঞ আমলী আদালত(৫) রাজশাহীতে একটি মামলা দায়ের করি।

এরেই সূত্র ২ নং মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য  সিধনা  গ্রামের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ইন্দনে, অভিযুক্ত মোমিনের ছেলে রুহুল আমিন, মতিনের ছেলে মানিক, মন্টুর ছেলে আজম, এলতাজের ছেলে আসগর আলী, ফরিদের ছেলে আহমদ, তফজুলের ছেলে মনিসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন ব্যাক্তিরা আবার ও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছে বলে জানান ভুক্তভোগী। বিষয়টি জানতে সরজমিনে সাঈদ আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পুকুর টি খাস জমি হিসেবে আমরা জানতাম,কিন্তু আমাদের কোন কাগজপত্র নেই, এদিকে পুকুরের বৈধ কাগজপত্র  ও মালিক রয়েছে বললে,জবাবে  সাঈদ আলী বলেন ,তা থাকলে থাকতে পারে ,তবে আমরা পুকুরের পানি দিয়ে  প্রতিবছর চাষাবাদ করি। যার ফলে আমরা পুকুর ছাড়াবো না,সে যা পারে করতে পারে। পারলে আমরা দেখবো। জমির মালিক মোঃ ফারুক হোসেন আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রভাবশালী মহল দ্বারা এমনকি গোদাগাড়ী উপজেলার ২ নং মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, সিধনা গ্রামের  ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাকারিয়া  সয়ং নিজের প্রভাব দেখিয়ে,আমাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।তাছাড়া পরবর্তীতে মাছ চুরির ঘটনায় সকলেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাউন্সিলর জাকারিয়া ‘র আত্মীয়-স্বজন হওয়ার কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাল- বাহানা করে সময় ক্ষেপন করছে।এছাড়া ও কাউন্সিলর জাকারিয়া’র আত্মীয় স্বজন জড়িত থাকায়,তিনি সুষ্ঠ সমাধান না করে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ইতিপূর্বে  কাউন্সিলর জাকারিয়া নিজেই  মৌখিকভাবে সমস্যার সমাধান করেছিলেন।তার পর ও তিনি অন্ধকার থেকে ইন্দন দিচ্ছেন, ফলে তারই আত্মীয়স্বজন এমন ঘটনার সৃষ্টি করেছে, মূলত এই জনপ্রতিনিধি জাকারিয়া (কাউন্সিলর) এর ছত্রছায়ায় এসব ঘটনার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা, বলে অভিমত ব্যক্ত করেন জমির মালিক মোঃ ফারুক হোসেন ।
ভুক্তভোগীর মত অনুযায়ী,ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য  মোঃ জাকারিয়া’র মুঠোফনে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি বলেন,যে আদা খেয়েছে,সে ঝাল বুঝবেন, আর আমি এ বিষয়ে কোন তদবির করছি না, এই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি তবে,ইউ পি সদস্য মোঃ জাকারিয়া যে,বিষয়টি নিয়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে তার সত্যতা নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক আওয়ামীলীগ নেতা।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকারিয়া তার বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিবেদক কে বলেন যে,   অভিযোগকারী মোঃ ফারুক হোসেন যদি বাড়াবাড়ি করে তবে আমার এলাকায় তাকে আসতে দেবো না, দেখে নেবো এই বলে মুঠোফনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন ।

বিষয়টি নিয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খাইরুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । এছাড়া ও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আতোয়ার রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর পরিদর্শন করে দেখা গেছে মাছ মারা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মাছ ধরার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেন পুকুরটি খাস জমি কিন্তু  তারা পুকুরের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তবে পুকুরের মালিক দাবিদ্বার মোঃ ফারুক হোসেন ,তার কাছে থাকা পুকুরের যাবতীয় দলিল – পত্র প্রদান করেছে।বিষয়টি সুষ্ঠ সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

প্রধান মন্ত্রীর উপহার স্বরুপ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

মোঃ কফিল উদ্দিন,আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি:হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌলরী ও রসুলপুর গ্রামের ১২৫ টি পরিবারের মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *