Breaking News
Home / জেলার সংবাদ / কেমন চলছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্তদের জীবন যাপন

কেমন চলছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্তদের জীবন যাপন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সারাদেশে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে গৃহবন্দি সাধারণ মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে খাবার এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দিচ্ছেন অনেকেই। সরকারও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে মধ্যবিত্তের পাশে নেই কেউ। ঘরে খাবার না থাকলেও মধ্যবিত্তরা লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না। সারাদেশে লাখ লাখ মধ্যবিত্তের অবস্থাও প্রায় একই। এরকম অবস্থায় ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তায় আর কত দিন  কাটবে এই নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

রাজারহাট উপজেলার ফরকেরহাট বাজারের মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হযরত বিল্লাল জানান আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে  যা ইনকাম হতো তাই দিয়ে মোটামুটি  সংসার চলতো, বর্তমানে করোনা প্রতিরোধে সরকারি আইন মেনে বাড়িতেই সময় পার করছি ইনকাম না করলে বসে বসে কতদিন সংসার চলে  আমাদের কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারিনা আমাদের কষ্ট নিয়ে কেউ ভাবেও না । একই অবস্থার কথা জানালেন রাজারহাট উপজেলার  মিলের পায় বাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান তিনি বলেন, নিম্নবিত্তরা দান অনুদান বরাদ্দ দিয়ে চলতে পারে তাদের জন্য সরকার বরাবরই বরাদ্দ দিয়ে থাকেন, উচ্চবিত্তরা  বেতন বা জমানো টাকা দিয়ে চলছে কিন্তু আমরা মধ্যবিত্ত বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিভাবে চলবো সে খবর কেউ রাখে না। পাকার মাথা সততা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আলাউদ্দিন জানান, দোকান থেকে  যে আয় হয় তাতেই সংসারটা ভালোভাবে চলে যায়। কিন্তু তার কোনো সঞ্চয় নেই। গত চার বছর ব্যবসা করলেও এমন সংকটে কখনোই পড়েননি তিনি। এক সপ্তাহ ধরে দোকান বন্ধ। হাতে কিছু টাকা ছিল তা দিয়ে ১০ দিনের বাজার করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে কঠিন অনিশ্চয়তায় পড়ে অন্ধকার দেখছেন চোখেমুখে। কীভাবে দোকান ভাড়া দেবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন, সেই চিন্তায় ঘুম আসে না তার। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে আঁতকে ওঠেন তিনি। কিন্তু কাউকে এমন কষ্টের কথা বলতেও পারছেন না। অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, ‘বড় লোকের টাকার অভাব নেই। গরিবরা ত্রাণ পায়। আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে চোখের পানি লুকায়। কাউকে প্রকাশ করতে পারে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন বলেন তিনি  চাকরি করেন একটি  কারখানায়। বেশ ভালোই বেতন পেতেন। এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বর্তমানে কারখানা বন্ধ। এর আগ থেকেই  কাজ না হওয়ায় দুই মাস ধরে বেতন হচ্ছে না। এই অবস্থায় চিন্তায় তার মাথায় হাত। কী করবেন, কী করা উচিত, ভেবে উঠতে পারছেন না।  কথা হয় রাজারহাটের সহিদ বুক ডিপো স্টেশনারী দোকান মালিক  মোশাররফ হোসেন এর সঙ্গে। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এটা কোনো জীবন হলো। সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। চক্ষুলজ্জায় কষ্টগুলো প্রকাশ করা যায় না। ওই যে আমরা মধ্যবিত্ত। আমাদের কোনো কষ্ট নেই। আছে শুধু সুখ। কিন্তু এর আড়ালে আমরা যে কত কষ্টে জীবনযাপন করি, তা বোঝানো যায় না। কেউ বোঝারও চেষ্টা করে না।’

কুড়িগ্রাম জেলা অঘোষিত লকডাউন হয়ে আছে এক সপ্তাহ ধরে। ফলে ঘরবন্দি কয়েক লাখ মানুষ। সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে প্রতিদিনই কেউ না কেউ খাবার বিতরণ করেন সেটিও চাহিদার তুলনায় একেবারে কম। কিন্তু মধ্যবিত্তরা আছেন বড় বিপদে ।  একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘নিম্নবিত্তের লোকজন তো সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে, বেসরকারি সহায়তা পাচ্ছে, কিন্তু মধ্যবিত্তের কী হবে? তার ঘরে খাবার শেষ হয়ে আসছে। এখন অল্প অল্প করে খাচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। কারণ তারা কখনোই খাবারের কষ্ট করেনি। খাবার টেবিলে বসলে কান্না আসে।’

যারা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করেন, তারা পড়েছেন বেশি বিপদে। যেমন অটোরিকশা  চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন করোনাভাইরাসের কারণে অফিস আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যাত্রী নেই  উপার্জন আপাতত বন্ধ যে ত্রান দিচ্ছে তাদের জন্য বরাদ্দ তারাই পায়না আমরা কেমনে পাবো। । কুড়িগ্রাম শহরের একজন আইনজীবীর সাথে কথা হলো তিনি বলেন, মাস শেষে তার নির্ধারিত বেতন নেই। তার ভরসা প্রতিদিনের কাজের ওপর, মামলার ওপর। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো বাড়িভাড়া দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় তার পক্ষে। মধ্যবিত্তদের দুর্দশার কথা কেউ কেউ ফেসবুকেও তুল ধরছেন। একজন লিখেছেন, ‘সবাই গরিব নিয়ে ব্যস্ত, আপনার পাশের মিডেল ক্লাস ফ্যামিলিটারও খবর নিয়েন, বাসায় বাজার সদায় আছে, নাকি মুখ চেপে না খেয়ে দিন পার করছে?’

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

রাজশাহীতে প্রতারক ও মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য আটক

মো.পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীতে প্রতারক ও মানব পাচারকারী চক্রের তিনজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *