Breaking News
Home / অন্যান্য / উন্মুক্ত জনতার কথা / কুষ্টিয়ায় সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যেতে বসেছে

কুষ্টিয়ায় সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যেতে বসেছে

শাহীন আলম লিটন কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : খোলা বাজারের চেয়ে সরকার নির্ধারিত দাম কম হওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকল মালিকরা সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে তেমন একটা সাড়া দিচ্ছেন না। একই কারণে জেলার প্রান্তিক কৃষকরাও সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে একেবারেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। চালকল মালিক এবং কৃষকদের অসহযোগিতার কারণে কুষ্টিয়ায় সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে ভেস্তে যেতে বসেছে। উদ্বোধনের এক মাসে লক্ষ্যমাত্রার ১০ ভাগ চালও সংগ্রহ হয়নি। একই অবস্থা ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও। ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও সংগ্রহ করা গেছে মাত্র ৬ মেট্রিক টন। তবে জেলা প্রশাাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান সফলভাবে শেষ করবেন। আপদকালীন মজুতের জন্য সরকার প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে স্থানীয় চালকল মালিকদের কাছ নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহ করে থাকেন। তবে এবার মহামারি করোনার কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এ সংগ্রহ অভিযানকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে এবার ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্য ও বাজার দরের মধ্যে হের-ফেরের কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার চালকল মালিকরা এবারের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে একেবারেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়া জেলা থেকে এবার ৩৪ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন হয়েছে গত ১৭ মে। এক মাস পার হতে চললেও সর্বশেষ বুধবার (১৭ জুন) পর্যন্ত মাত্র চার হাজার মেট্রিক টন চাল কেনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ধান সংগ্রহ অভিযানের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। জেলায় এবার ৬ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সর্বশেষ বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। চালকল মালিকদের দাবি- বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মোটা ধানের সংকটও রয়েছে। জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদিন প্রধান জানান, দেশের যেসব অঞ্চল থেকে তারা ধান সংগ্রহ করেন সেসব এলাকায় ধানের দাম বেশ চড়া। ওই দামে ধান কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল সরবরাহ করলে তাদের মোটা অংকের লোকসান গুনতে হবে। তিনি আরও জানান, চালকল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে বাজার ঘুরে সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি মণ ১০৪০ টাকা। অন্যদিকে বাজারে ক্ষেত্র ভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে। যে কারণে কেউই সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বাংলাদেশ অটো মেজর রাইস অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, খোলা বাজারেই মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩৬ টাকা। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের ওপর মহলে জানানো হয়েছে। আশা করি সরকার চালকল মালিকদের স্বার্থের বিষয়টি দেখবে। তবে চুক্তি অনুযায়ী মিল মালিকদের থেকে শতভাগ চাল সংগ্রহের বিষয়ে এখনও আশাবাদী জেলা খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে বাজার মূল্যের চাইতে সরকার নির্ধারিত মূল্য কম। যে কারণে কৃষক এবং মিলাররা ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কিছুটা জটিলতা থাকলেও সেটা কাটিয়ে উঠে অভিযান সফল করা সম্ভব হবে।
খাদ্য ক্রয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতে অভ্যন্তরীণ খাদ্য সংগ্রহ ঠিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এখনই কার্যকর ও সঠিক পদক্ষেপ নেয়া না হলে চলতি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যেতে পারে।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

রাজশাহীতে প্রতারক ও মানব পাচারকারী চক্রের ৩ সদস্য আটক

মো.পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী নগরীতে প্রতারক ও মানব পাচারকারী চক্রের তিনজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *