Breaking News
Home / অন্যান্য / বিশ্ববিদ্যালয় / আমার দেখা ক্যাম্পাস : প্রিয় ক্যাম্পাস, তুমিই তোমার তুলনা।

আমার দেখা ক্যাম্পাস : প্রিয় ক্যাম্পাস, তুমিই তোমার তুলনা।

“একটি আলোর কণা পেলে লক্ষ প্রদীপ জ্বলে,
একটি মানুষ, মানুষ হলে বিশ্বজগৎ টলে।“

কথাটা জানতাম, কিন্তু মানতাম না। ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে কয়েকজন স্যারকে দেখে উপরোক্ত সত্যকে মানতে বাধ্য হয়েছি। আমার এখন শুধুই মনে হয় ক্যাম্পাস -এ আমার আসাটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। মনে হয়- আরো ৫ বছর আগে যদি আমি ক্যাম্পাসের সাথে জড়িত হতাম, তাহলে আজ হয়তো নিজেকে সফল ও সার্থক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতাম। মনে হয়, কেন যে আমি এতদিন ক্যাম্পাসর খোঁজ পেলাম না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খুব শখ ছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পাস -এ এসে ঢাবিতে পড়তে না পারার দুঃখ ঘুচল।

এতক্ষণ পর্যন্ত যে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বললাম, সেটা হল আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি  ক্যাম্পাস।  যার সাথে আমার পরিচয় হয় ২০১৯ সালের শেষের দিকে । হঠাৎ একদিন এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো ক্যাম্পাস, ভার্সিটি এসব নিয়ে৷ তিনি আমাকে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র কথা বললেন। মনের ভিতর কেনো জানি তখন থেকে ডি আই ইউ গেঁথে যায়। তারপর আসলাম, কথা বললাম শেষে ভর্তি হয়ে গেলাম।

বিশেষ করে স্যারদের যে সৎ ও দূর-দৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তা, ক্যাম্পাস পরিবারের যে দক্ষ অভিভাবকত্ব, যে সু-দক্ষ প্রশাসকের ভূমিকা, ক্যাম্পাস পরিবারের সদস্যদের বন্ধুত্বসুলভ আচরণ এবং সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা -এসব গুণাবলী যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

প্রথম দিনের Impression ছিল অত্যন্ত চমৎকার। বুঝতে পারলাম, শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত এবং ছাত্র-যুবকদের আত্মোন্নয়ন ও দিক-নির্দেশনায় এক অনন্য প্রতিষ্ঠান এ ক্যাম্পাস।   এই প্রতিষ্ঠানে আমার দেখা কিছু Super human স্যার আছে, যার মধ্যে উল্লিখিত বাসেদ স্যার, তাজিব স্যার, আনিস স্যার, সাইফুজ্জামান স্যার।

সর্বোপরি দূষনের শহর রাজধানীতে বিশুদ্ধ বাতাসে ভর্তি প্রিয় ক্যাম্পাস আমারটি। ক্লাস, প্রাকটিক্যাল, অ্যাসাইনমেন্ট  ও কো- কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস নিয়ে থাকতে থাকতে সারাবছর চলে যায়, চিন্তায় থাকি কখন একটু সময় পাবো। এখন ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসে সবচেয়ে বেশী মিস করা হচ্ছে আমার ক্যাম্পাস কে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমার জীবনের অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। আমি ক্যাম্পাস-এ আসার আগে খুবই হতাশা ও নিরাশায় ছিলাম কোথায় এডমিশন নিবো, কোথায় পড়বো, ক্যারিয়ার এসব নিয়ে। আমি এখন আশাবাদী এবং প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী। আমার এ প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছেন আমার প্রিয় কিছু স্যার। তারমধ্যে একজন স্যার আমাকে সবসময় বলেন, ‘তুমি পারবেই’। স্যারের প্রেরণা থেকেই আমি শক্তি সঞ্চয় করি। ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, বন্ধু, প্রিয় কিছু বড় ভাই সবাইকে অনেক বেশী মিস করছি। তারমধ্যে আরজু ভাই, লিমন অনেকে আছে। ইউনিভার্সিটিতে দলবেঁধে আড্ডা দেয়া, স্মৃতিময় সময় কাটানো নিয়মিত রুটিন হয়ে গেছে।

আমার ক্যাম্পাস শিল্প, সাহিত্য, বন্ধুত্ব, আড্ডা ও ভালবাসার মায়ায় ভর্তি । যৌবনের শক্তিতে শিক্ত আমার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক, নাচ, গান নিয়ে মাতিয়ে থাকে সারাক্ষণ।  সবসময় নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা নিয়ে মাতামাতি করে একটা সুন্দর ভ্রাতৃপ্রেমী সম্পর্ক অবস্থান করছে আমার ক্যাম্পাসে।  অনেকে আছে রাজনীতি-সংগঠন নিয়ে, আবার অনেকে আছে প্রিয় মানুষটিকে সাথে নিয়ে ভালো সময় কাটানো ব্যস্ত,  কেউবা আছে তুখোড় মেধাবী সারাক্ষণ ই পড়াশোনায় ভিশন মনোযোগী। আর কেউ কেউ আছে আমার মতো সবচেয়ে প্রিয় কাজ বন্ধুদের নিয়ে আড্ডাবাজিতে ব্যস্ত।

লেখক- কাজী ফিরোজ আহাম্মদ
শিক্ষার্থী- সিএসই বিভাগ।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

SK Computer, Godagari, Rajshahi. 01721031894

About জনতার কথা ডেস্ক

Check Also

রাজশাহীতে প্রথম দিনই সাড়া ফেলেছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

মো.পাভেল ইসলাম নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছর চাহিদা না থাকায় তেমন সাড়া মেলেনি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *